এবারের এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর তিন-চার দিনের মধ্যে অনলাইনে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া কেউ চাইলে নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে বোর্ড থেকে কাগজেও মার্কশিট নিতে পারবে। এ সিদ্ধান্ত সম্প্রতি চূড়ান্ত করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এখন থেকে শিক্ষার্থীদের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার মার্কশিট এভাবেই অনলাইনে এবং চাইলে কাগজে দেয়া হবে। শিক্ষার্থীরা অনলাইন থেকে তাদের মার্কশিট প্রিন্ট করে নিতে পারবে। কিন্তু ট্রান্সক্রিপ্টের মতো কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাবে না।
জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, সম্প্রতি মার্কশিট দেয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা চাইলে মার্কশিট হাতে পাবে। না চাইলে কাউকে দেয়া হবে না। তবে অনলাইনে সবার জন্যই উম্মুক্ত করে দেয়া হবে। শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে নিজের প্রাপ্ত নম্বর জেনে নিতে পারবে।
এ সিদ্ধান্ত দাখিল এবং আলিমসহ সমমানের অন্য পরীক্ষার ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা ঠিক যে মার্কশিট পাওয়ার সুযোগ থাকলে সবাই চাইতে পারে। সেক্ষেত্রে আবেদন করে নেয়ার বাড়তি একটা জটিলতা আছে। এতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ভোগান্তি বাড়বে। কিন্তু সরকারি সিদ্ধান্ত হচ্ছে, ট্রান্সক্রিপ্ট দেয়া হবে। আদালতের রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মার্কশিট দেয়া হচ্ছে।
এর আগে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের মার্কশিটের ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনা আছে। সে অনুযায়ী এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়ে ২৮ এপ্রিল বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রীয় প্লাটফর্ম ‘আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি’র পক্ষ থেকে (মন্ত্রণালয়ে) প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। মন্ত্রণালয় প্রস্তাবে ইতিবাচক অনুমোদন দেয়।
এরপর বিষয়টি নিয়ে ৯ জুন আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের কমিটিতে আলোচনা ও অনুমোদন হয়। কিন্তু চেয়ারম্যানস কমিটিতে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয়নি। তবে আমি সবার সঙ্গে আলোচনা করে তিন-চার দিনের মধ্যেই নম্বর অনলাইনে দেয়ার ব্যবস্থা নেব।
ঢাকা বোর্ডের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মনজুরুল কবীর জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, আমরা এখন থেকে শিক্ষার্থীদের শুধু সামনের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার নম্বর জানাব। অতীতের কোনো ফল জানাব না। বিশেষ করে জেএসসি পরীক্ষার বিষয়ে আদালতের রায়ে কোনো নির্দেশনা নেই। তাই জেএসসির নম্বর জানাব না।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০০১ সালের ১২ মার্চ এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় গ্রেডিং ব্যবস্থা চালু করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, ‘সরকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পাবলিক পরীক্ষার ফল লেটার গ্রেডিং পদ্ধতিতে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ২০০১ সালে অনুষ্ঠিতব্য মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা এবং ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষা থেকে ফল লেটার গ্রেডিং পদ্ধতিতে প্রকাশিত হবে।
এ বিষয়ে নিন্মক্ত সিদ্ধান্ত অনুসরণ করতে হবে। ক. পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কোনো বিভাগ থাকবে না। শুধু প্রতি বিষয়ে প্রাপ্ত লেটার গ্রেড এবং সব বিষয়ে প্রাপ্ত গ্রেড পয়েন্টের (জিপি) ভিত্তিতে পরীক্ষার্থীর গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ (জিপিএ) উল্লেখ থাকবে। লেটার মার্ক ও স্টার মার্ক প্রদান এবং মেধা তালিকা প্রণয়ন বা প্রকাশ ইত্যাদি প্রচলিত প্রথা থাকবে না।’
এ প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে ২০০৩ সালের ৪ জানুয়ারি আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করে দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলো পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে আসছে।
গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর পর থেকে শিক্ষা বোর্ডগুলো পরীক্ষার্থীকে নম্বরপত্র দেয়া বন্ধ করে দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর সরকারি কবি নজরুল কলেজ থেকে ২০১০ সালের এইচএসসি (বিজ্ঞান) পরীক্ষার্থী এম নাফিস সালমান খান ৪ দশমিক ৩০ পয়েন্ট পাওয়ায় উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষা ও নম্বরপত্র সরবরাহের আবেদন জানান ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। কিন্তু বোর্ড দেয়নি।
এ কারণে ২০১১ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন নাফিস। এতে ২০০১ ও ২০০৩ সালের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি তাকে মার্কশিট সরবরাহে নির্দেশনা চাওয়া হয়। রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১১ সালের ৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ২১ এপ্রিল হাইকোর্ট রায় দেন।
তথ্যসূত্রঃ দৈনিক শিক্ষা

